যখন আমরা শুনি যে কারও টিউমার হয়েছে, তখন আমাদের মনে প্রথম যে ভয় আসে তা হল ক্যান্সারের ভয়। কখনও কখনও ভয় সত্য হয় এবং অনেকসময় ভয়ের জয় হয় না কারণ সব টিউমার ক্যান্সারজাতীয় নয়। টিউমারকে অস্বাভাবিক কোষের গুচ্ছ বলা যেতে পারে। যখন কোষগুলি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পায়, তখন তারা একটি পিণ্ড তৈরি করে এবং চিকিৎসাশাস্ত্রে এটিকে টিউমার বলা হয়। এটি বাড়তি কিছু জায়গা দখল করে নেয় এবং পাশে থাকা টিস্যু বা অঙ্গকে চাপ দিতে থাকে; এর ফলে রোগী ব্যথা অনুভব করতে পারে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই টিউমার সারা শরীর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
টিউমারের অভ্যন্তরে কোষের ধরনের উপর নির্ভর করে টিউমারগুলো বিনাইন টিউমার (ক্যান্সার সদৃশ নয়) বা ম্যালিগন্যান্ট টিউমার (ক্যান্সার সদৃশ) হতে পারে।. বিনাইন টিউমারগুলি ক্যান্সার সদৃশ নয় এবং এগুলি নিকটবর্তী টিস্যু বা অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে না। এই টিউমারগুলি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং সাধারণত প্রাণঘাতী হয় না। ম্যালিগন্যান্ট টিউমারগুলি ক্যান্সার সদৃশ এবং এগুলি নিকটবর্তী টিস্যু বা অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। এই টিউমারগুলি দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং জীবন-হুমকির সম্মুখীন হয়।
এক নজরে বিনাইন ও ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের মধ্যে মূল পার্থক্যগুলি এখানে দেওয়া হল।
| বিনাইন টিউমার | ম্যালিগন্যান্ট টিউমার |
| ক্যান্সার সদৃশ নয় | ক্যান্সার সদৃশ |
| পার্শ্ববর্তী টিস্যু বা অঙ্গগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে না | পার্শ্ববর্তী টিস্যু বা অঙ্গগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে |
| ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় | দ্রুত বৃদ্ধি পায় |
| ক্যান্সার পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনা খুব বিরল | ক্যান্সার পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনা বেশি |
| একটি নির্দিষ্ট আকৃতি থাকে | নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি থাকে না |
| কিছুটা চাপ দিলে এটি সরে যায় নির্দিষ্ট জায়গা থেকে | এটিকে সরানো যায় না |
| চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে বা নাও হতে পারে | চিকিৎসার প্রয়োজন হয় |
| প্রাণহানির আশঙ্কা নেই | প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে |
| ক্যাপসুলেটেড | নন-ক্যাপসুলেটেড |
বিনাইন টিউমার: অ্যাডেনোমাস, ফাইব্রোমাস, ডেসময়েড টিউমার, হামার্টোমাস, হেমাঞ্জিওমাস, লাইপোমাস, লেইওমায়োমাস, মায়োমাস, প্যাপিলোমাস।
ম্যালিগন্যান্ট টিউমার: কার্সিনোমা, ব্লাস্টোমা, জীবাণু কোষ, সারকোমা।
