প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৯ :৪৪

৪০ বছর বয়সে ক্যান্সার সচেতনতা: করণীয় কী?

বয়স বাড়ার সাথে সাথে আপনার শরীরের টিস্যুগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে। আপনার দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও দিনে দিনে দূর্বল হয়ে পড়বে। আপনার জীবনযাত্রার পন্থা, বদ অভ্যাস, খাদ্যাভ্যাস, আপনি রোগাক্রান্ত হলে-এই বিষয়গুলোর কারণে আপনার দেহ ক্যান্সার সংক্রমণ প্রবণ হয়ে উঠে। এই কারণসমূহই ক্যান্সারের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। 

অনেকসময়, আমাদের দেহের অভ্যন্তরে কি ঘটছে সে বিষয়ে আমাদের কোন ধারণা থাকে না;  অনেকসময় সেই অলক্ষিত বিষয়গুলোই হয়ত ক্যান্সারের প্রাক কারণসমূহ হয়ে থাকে। ক্যান্সার সম্পর্কিত তথ্য সম্পর্কে অসচেতনতা বা অজ্ঞতা একদম প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিষয়টির ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। ৪০ বছরে উপনীত হওয়ার পর আমাদের যে বিষয়গুলো জানা উচিত তা নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করবো।

ক্যান্সারের ধরণ
৪০ বছরে উপনীত হওয়ার পর বেশ কয়েক ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বয়স অনেক বড় একটা ঝুঁকি। বিভিন্ন বয়সে মানুষ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকে। ৪০ বছর বয়সে মানুষ সাধারণত যে ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকে সেগুলো হচ্ছে-

  • মেলানোমা (ত্বকের ক্যান্সার)
  • থাইরয়েড ক্যান্সার
  • স্তন ক্যান্সার
  • সার্ভিক্যাল ক্যান্সার
  • ব্রেইন ক্যান্সার
  • ইন্ট্রাক্রনিয়াল ক্যান্সার
  • কলোরেকটাল ক্যান্সার (মলাশয় ও মলদ্বারের ক্যান্সার)
  • মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সার
  • অন্ডকোষের ক্যান্সার (অন্ডকোষে সংক্রমণ হয়ে থাকে)
  • লিম্ফোমা (হজকিং এবং নন-হজকিং) (লিম্ফেটিক সিস্টেমের ক্যান্সার)
  • যকৃতের ক্যান্সার
  • পাকস্থলীর ক্যান্সার
  • ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার
  • লিউকেমিয়া
  • ফুসফুসের ক্যান্সার
  • জরায়ুর ক্যান্সার

লক্ষণ
লক্ষণসমূহ সম্পর্কে অবগত থাকলে প্রাথমিক পর্যায়েই আপনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারবেন। নিম্নে উল্লিখিত লক্ষণসমূহের মধ্যে যেকোনো একটিও যদি দেখতে পান তাহলে দেরি না করে অতিসত্বর একজন চিকিৎসক বা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। 

  • স্তনে দলা বা চাকতির মত দেখা দিলে
  • অনিচ্ছাকৃত ওজন হ্রাস পাওয়া
  • অন্ডকোষে দলা অনুভব করা 
  • অবসাদ
  • ক্ষুধামন্দা
  • রাতে ঘাম হওয়া
  • ত্বকে যেকোনো ধরনের পরিবর্তন
  • মাসিক ছাড়াই রক্তস্রাব বা অন্য ধরনের স্রাব
  • পেট বা শ্রোণিদেশে ব্যথা
  • কোমরে ব্যথা
  • অস্বাভাবিক কাশি
  • প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া
  • মলে পরিবর্তন
  • মলদ্বার হতে রক্তপাত

চিকিৎসা
যে চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়ে থাকে-

  • সার্জারি
  • রেডিয়েশন থেরাপি
  • কেমোথেরাপি
  • অ্যান্টিক্যান্সার ড্রাগ
  • টার্গেটেড থেরাপি
  • হরমোন থেরাপি
  • ইমিউনোথেরাপি
  • স্টেম সেল প্রতিস্থাপন

ক্যান্সার চিকিৎসার কিছু পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তাই ক্যান্সার চিকিৎসা শুরুর পূর্বে চিকিৎসক বা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞকে সম্ভাব্য সকল পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে নিতে হবে। এর ফলশ্রুতিতে ওইসকল পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াগুলো দেখা দিলে আপনি মানসিকভাবে সেগুলো মেনে নেওয়ার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত থাকবেন। 

দীর্ঘদিন যাবত ভুগতে থাকা যেসকল বিষয় বা সংক্রমণ ৪০ বছর বয়সে আপনার ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে

  • পালমোনারি রোগ
  • ডায়াবেটিস
  • ইউরিক এসিডের মাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
  • প্রোটিন ইউরিয়ার উপস্থিতি
  • অস্বাভাবিক গ্লোমেরুলার ফিলট্রেশন হার
  • অত্যধিক হৃদকম্পনের গতি 
  • হাইপারটেনশন বা প্রি-হাইপারটেনশন
  • মোট কোলেস্টেরলের মাত্রা কম থাকলে
  • অসামঞ্জস্যপূর্ণ বডি ম্যাস ইনডেক্স
  • মদ্যপান
  • অপর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম
  • অপর্যাপ্ত ফলমূল/শাকসবজি গ্রহণ 
  • ধূমপান
  • স্থূলতা
  • হেপাটাইটিস বি ও সি, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস, এপস্টেইন-বার ভাইরাস এবং হিউম্যান ইমিনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাসের সংক্রমণ

৪০শে পা দেওয়া ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীরা যেসকল পারিপার্শ্বিক সমস্যায় ভুগে থাকেন
৪০ বছর বয়সী একজন ক্যান্সার রোগী বা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন ব্যক্তিরা যেসকল পারিপার্শ্বিক সমস্যায় ভুগে থাকেন-

  • অর্থনৈতিক সমস্যা
  • ভুল সনাক্তকরণ
  • সামাজিক সমস্যা
  • আবেগগত সমস্যা 
  • মৃত্যু ভয়
  • অক্ষমতা
  • বন্ধ্যাত্ব

৪০ বছরের শুরু থেকেই যে স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাসগুলো আমাদের আয়ত্তে আনতে হবে


'প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম'


ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে ৪০শে পা দেওয়ার সাথে সাথেই কিছু কিছু স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস আপনার দৈনন্দিন তালিকায় যুক্ত করা উচিত।

  • স্ক্রিনিং (যাদের দেহে এখন পর্যন্ত কোন লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়নি তাদের দেহে ক্যান্সারের উপস্থিতি রয়েছে কিনা পরীক্ষা করার জন্য স্ক্রিনিং টেস্ট করা হয়ে থাকে। এই প্রযুক্তি ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে)
  • ধূমপান পরিত্যাগ করা
  • অত্যধিক অ্যালকোহল সেবন পরিহার করা
  • পরিবেশে উপস্থিত ক্যান্সার উদ্দীপক পদার্থ যেমন অ্যাসবেসটস, বেনজিন, ফরমালডিহাইড, আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির সংস্পর্শে অপেক্ষাকৃত কম আসা
  • শারীরিক কসরত 
  • মানসিক চাপ ও উদ্বিগ্নতা নিয়ন্ত্রণ
  • নিয়মিত চেকআপ করানো
  • বয়স অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণ করা
  • অপেক্ষাকৃত কম চিনি বা চিনিজাতীয় খাবার গ্রহণ করা
  • হাড়ের বাড়তি যত্ন নেওয়া
  • বাইরে যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই সানস্ক্রিণ ব্যবহার করা
  • অধিক ব্যক্তির সাথে সহবাস পরিত্যাগ করা
  • কতিপয় টিকা (HPV টিকা)
  • নিয়মিত ঘুম
  • অধিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্রহণের প্রচেষ্টা
  • ভিটামিন বি-১২ গ্রহণ
  • অধিক শ্রমের কাজ পরিহার করা
  • ক্যালসিয়াম গ্রহণ বৃদ্ধি করা
  • যোগাসন

Fighting Cancer Desk
ফাইটিং ক্যান্সার ডেস্ক