অগ্ন্যাশয়ে অস্বাভাবিক কোষের সৃষ্টি এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সবচেয়ে অধিক যে ধরনের অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার হয় তা হলো প্যানক্রিয়াটিক ডাক্টাল অ্যাডিনোকারসিনোমা। এটি তলপেটে এবং পাকস্থলীর পিছনে অবস্থিত একটি গ্রন্থি।
অগ্ন্যাশয় আমাদের শরীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি এনজাইম ও হরমোন তৈরিতে সহায়তা করে যা যথানুক্রমে খাবার পরিপাকে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
পরিসংখ্যান
অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার বিশ্বের ১২তম সর্বাধিক সংক্রমিত ক্যান্সার। অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার ৬৫ বছরের অধিক বয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং ৪০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এই ক্যান্সারের প্রকোপ খুবই কম দেখা যায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রতি ৫৬ জনে ১ জন এবং নারীদের ক্ষেত্রে প্রতি ৬০ জনের মধ্যে ১ জনের এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ঝুঁকির কারণ এবং লক্ষণসমূহ
- প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপান
- ডায়াবেটিস (টাইপ-২)
- দীর্ঘস্থায়ী প্যানক্রিটাইটিস
- পরিবারে পূর্বে কারো হয়ে থাকলে
- স্থূলতা
- মদ্যপান
- বার্ধক্য
অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্টেজে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না, একদম অ্যাডভান্সড স্টেজে গিয়ে লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে। জন্ডিস, গাঢ় রঙের প্রস্রাব, হালকা রঙের মল, চুলকানি, পেট বা পিঠে ব্যথা, পাকস্থলীতে আলসার, ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব, ক্লান্তি, ওজন কমে যাওয়া, ডায়রিয়া এবং ডায়াবেটিসের লক্ষণ।
প্রতিরোধ
দুর্ভাগ্যবশত, অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায় না। আমরা ঝুঁকির কারণগুলি এড়িয়ে চলার মাধ্যমে ক্যান্সারের হার কমাতে পারি। আমাদের স্বাস্থ্সম্মত ওজন বজায় রাখতে হবে এবং ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলতে হবে।
চিকিৎসা
অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্তদের বেঁচে থাকার হার খুব কম। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি শনাক্ত করা গেলে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় করা যেতে পারে। চিকিৎসা এবং এর সফলতা কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে, যেমন টিউমারের অবস্থান, ক্যান্সার কোন স্টেজে রয়েছে, রোগীর স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং এটি অন্য কোনো অঙ্গে বা অংশে ছড়িয়ে পড়েছে কি না।
যদি ক্যান্সার অগ্ন্যাশয়ের ভিতরে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে পুরোপুরিভাবে ক্যান্সার অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়। অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত অন্যান্য পদ্ধতি হল কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি এবং টার্গেটেড থেরাপি।
