ক্যান্সার চিকিৎসার ফলে একজন রোগীর ক্ষুধা, পাচনক্রিয়া ও শরীরের ওজনের উপর বিস্তর প্রভাব পড়ে। চিকিৎসা চলাকালীন কেমোথেরাপি বা অন্যান্য রেডিয়েশন থেরাপির কারণে ক্যান্সার রোগীদের শরীরে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় যেমন -
- ডায়রিয়া
- কোষ্ঠকাঠিন্য
- অবসাদ
- মুখের স্বাদ চলে যাওয়া
- বমি
- বমিবমি ভাব
চিকিৎসকের নিয়মিত তত্ত্বাবধানে এবং পরামর্শ অনুযায়ী, একজন ক্যান্সার রোগীকে অবশ্যই পর্যাপ্ত এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
যেসকল খাবার খাওয়া উচিত:
- পানিশূন্যতা এড়াতে প্রচুর পরিমাণে পানি (প্রতিদিন কমপক্ষে ২ লিটার)পান করতে হবে। ক্যান্সারের কারণে বা ক্যান্সার চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেমন-ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, বমি, জ্বর, ঔষধ) হিসেবে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়।
- কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, যেমন দানাদার শস্য (যেমন, পাস্তা, গমের রুটি, ওটস), ডালজাতীয় (যেমন, মসুর ডাল, সয়াবিন, ছোলা), ফল (যেমন, আপেল, কমলা, নাশপাতি, জাম), শাকসবজি (যেমন, মটরশুঁটি, গাজর, ব্রকলি), বাদাম (যেমন, কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, পেকান) খেতে হবে।
- ক্যালসিয়াম এবং আয়রনের ঘাটতি পূরণের জন্য সব ধরনের সবুজ শাকসবজি এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য কড়াইশুঁটি খেতে হবে।
- ক্যান্সার রোগীদের নিয়মিত মলত্যাগে অনেকসময় জটিলতা দেখা দেয়, এই সমস্যা দূরীকরণের জন্য দই খেতে হবে; এতে করে দইয়ে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়া মলত্যাগের এই প্রক্রিয়াটিকে নিয়মিত রাখতে সহায়তা করে।
- ডাল এবং সবজি দিয়ে প্রস্তুতকৃত স্যুপ।
- লেটুস, টমেটো, শসা, ব্রকলি, সবুজ মটরশুঁটি, ডালিম, নাশপাতি ইত্যাদি দিয়ে প্রস্তুতকৃত ফ্রেশ সালাদ। ফ্রেশ সালাদ হচ্ছে পুষ্টিকর উপাদান, যেমন ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের একটি ভালো উৎস। এগুলি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে এবং ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতেও সহায়তা করে।
যেসকল খাবার খাওয়া উচিত নয়:
- চিনি ও কার্বনেটেড পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে। কেউ দীর্ঘ সময় ধরে না খেয়ে থাকলে অনেকসময় পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দেয়। ক্যান্সারের কারণে শরীরে অসহনীয় ব্যথা থাকে, আর এই পেট ফাঁপার সমস্যা পরিস্থিতিকে আরো কষ্টদায়ক করে তোলে।
- স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং অতিরিক্ত লবণ সেবন ক্যান্সারের অবস্থা আরও খারাপ করে ফেলতে পারে। ভাজা খাবারের পরিবর্তে বেক করা, ভাপানো এবং গ্রিল করা খাবার খাওয়া শ্রেয়।
- অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত এবং ক্রিমি স্যুপ খেতে হবে।
- চা এবং কফি পান করার ফলে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যাওয়ার হার বৃদ্ধি পায়, এবং এর ফলে তৃষ্ণাও বেড়ে যায়।
