শিশুদের ক্যান্সার

যেকোনো বয়সেই ক্যান্সার হতে পারে। ক্যান্সার কারো জন্যই কাম্য নয় তবে আক্রান্ত রোগী যদি হয় একজন শিশু তবে তা যেন পরিস্থিতিকে আরো বিষাদময় করে তোলে। ক্যান্সার একটি শিশুর শৈশবকে ধ্বংস করে দেয় এবং জীবনে নিয়ে আসে নানা পরিবর্তন। শিশুরা সাধারণত যে ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় তা প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যান্সার থেকে ভিন্ন ধরনের।

আমার সন্তানের কি হবে? ক্যান্সারের এই দুর্বিষহ যন্ত্রণার সাথে আমার সন্তান্ত কিভাবে মানিয়ে নিবে? আমার সন্তান কি সুস্থ হবে? আমি আমার সন্তানের সাথে কেমন ব্যবহার করবো?-ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের বাবা-মায়ের মাথায় শুরুতেই এই চিন্তাগুলো ঘুরতে থাকে। 

সাধারণত শিশুদের কোন ধরনের ক্যান্সারগুলো হয়?

লিউকেমিয়া

ক্যান্সারের মধ্যে শিশুরা লিউকেমিয়ায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। মানুষের শরীরের রক্ত ও অস্থিমজ্জায় এই ক্যান্সার হয়। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির মতে, মোট শিশু ক্যান্সারের ২৮% লিউকেমিয়া। লিউকেমিয়া অনেক ধরনের হয় এবং একিউট লিম্ফোসাইটিক লিউকেমিয়া ও একিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়া শিশুদের সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।
লক্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে অবসাদ, দূর্বলতা, হাড় ও জোড়ায় ব্যথা, ফ্যাকাশে ত্বক, জ্বর, ওজন কমে যাওয়া, চামড়া থেকে রক্তপাত।

ব্রেইন ও স্পাইনাল কর্ডের টিউমার
এটি দ্বিতীয় প্রধাণ শিশু ক্যান্সার এবং মোট দায়ী ক্যান্সারের প্রায় ২৬%। ব্রেইন টিউমার ব্রেইনের নীচের দিকের অংশ, যেমন-সেরেবেলাম বা ব্রেইন স্টেমে হয়ে থাকে।
লক্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে মাথাব্যথা, বমিবমি ভাব, বমি, ঝাপসা দৃষ্টিশক্তি, ঘুমঘুম ভাব ও খিঁচুনি। 

নিউরোব্লাস্টোমা
নবজাতক এবং অল্প বয়স্ক শিশুদের ক্ষেত্রে এই ক্যান্সারের প্রকোপ বেশি দেখা যায় এবং এটি মোট শিশু ক্যান্সারের প্রায় ৬%। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশু গর্ভে থাকাকালীন সময়ে এই ক্যান্সারের সংক্রমণ ঘটে।
লক্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে ফুলে যাওয়া, হাড়ে ব্যথা এবং জ্বর।

নেফ্রোব্লাস্টোমা
৩ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এই ক্যান্সার বেশি হয়। এই ক্যান্সার একটি বা কখনো কখনো উভয় কিডনিতে হয়। মোট শিশু ক্যান্সারের ৫% হচ্ছে এই নেফ্রোব্লাস্টোমা।
লক্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে পেট ফুলে যাওয়া বা জায়গায় জায়গায় পিন্ডের মত হয়ে যায়, জ্বর, ব্যথা, বমিবমি ভাব বা ক্ষুধামন্দা।

লিম্ফোমা (হজকিং এবং নন-হজকিং)
শরীরের লিম্ফোসাইট, লিম্ফ নোড বা অন্যান্য লিম্ফ টিস্যু, অস্থিমজ্জা বা অন্যান্য অঙ্গে এই ক্যান্সার হতে পারে। হজকিং এবং নন-হজকিং অন্যতম প্রধাণ দুই ধরনের লিম্ফোমা এবং এই দু ক্যান্সার মোট শিশু ক্যান্সারের যথাক্রমে ৩% এবং ৫%।
লক্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে ওজন কমে যাওয়া, জ্বর, ঘাম, ক্লান্তি এবং ঘাড় বা বগলের চামড়ার নীচে পিন্ড সদৃশ।

র‍্যাবডোমায়োসারকোমা
এই ক্যান্সার কংকাল পেশীতে হয়ে থাকে এবং শরীরের যেকোনো অঙ্গ, যেমন-মাথা, ঘাড়, কুঁচকি, পেট, শ্রোণিদেশ, হাত বা পায়ে ক্যান্সার শুরু হতে পারে। মোট শিশু ক্যান্সারের ৩% হচ্ছে এই র‍্যাবডোমায়োসারকোমা।
লক্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে ব্যথা এবং ফুলে যাওয়া।

রেটিনোব্লাস্টোমা
এটি চোখের ক্যান্সার এবং প্রায় ২% শিশু এই ক্যান্সারে ভুগে থাকে। ২ বছর বা এর কাছাকাছি বয়সের শিশুরা এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়।
লক্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে চোখের পিউপিল সাদা বা হালকা গোলাপি হয়ে যায়।

হাড়ের ক্যান্সার
এই ক্যান্সার হাড়ে হয় এবং এই ক্যান্সার মোট শিশু ক্যান্সারের ৩%।
লক্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে ফুলে যাওয়া এবং ব্যথা।


Fighting Cancer Desk
ফাইটিং ক্যান্সার ডেস্ক