প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২৫, ০৩ :২১

বাংলাদেশের সরকারী স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ক্যান্সার রোগীর বর্তমান চিত্র

গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সরকারী হাসপাতাল গুলোতে ক্যান্সার রোগী ভর্তির হার বেড়েছে। এর মাঝে পরিপাকতন্ত্র, শ্বাসযন্ত্র এবং ইন্ট্রাথোরাসিক অঙ্গগুলিতে ক্যান্সারের রোগীই বেশী।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস, ২০০৪) এর উপাত্ত অনুসারে ক্যান্সার বাংলাদেশে মৃত্যুর ষষ্ঠতম কারণ এবং এটি বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি, ২০০৮) অনুমান করেছে যে বাংলাদেশে ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর হার ২০০৫ সালে ৭.৫% থেকে বেড়ে ২০৩০ সালে ১৩% এ বৃদ্ধি পাবে। 

পুরুষদের ক্যান্সারের প্রধান দুটি কারণ হল ফুসফুস এবং মুখের ক্যান্সার এবং মহিলাদের স্তন ও জরায়ুর ক্যান্সার। বিশ্বব্যাপী ক্যান্সার এর রোগী বৃদ্ধিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বার্ধক্য সহ বিভিন্ন কারণ অবদান রাখে। অন্যান্য কারণের মাঝে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শারীরিক কার্যকলাপ, খাদ্য এবং পুষ্টি হতে পারে।

বাংলাদেশে ক্যান্সারের অবস্থা পুরোপুরি বুঝতে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যাগুলির সমাধান করতে একটি জাতীয় ক্যান্সার রেজিস্ট্রি সিস্টেম থাকা অপরিহার্য।

এই ক্যান্সার রেজিস্ট্রি তৈরির লক্ষ্যে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ক্যান্সার রোগীদের উপাত্ত ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (MIS) ডাটাবেসের DHIS2 (ডিস্ট্রিক্ট হেলথ ইনফরমেশন সফ্টওয়্যার) থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে যা ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিসেস (DGHS) এর অধীনে রয়েছে।

২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালগুলিতে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের ভর্তির হার ৭৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে, চিকিৎসার জন্য ভর্তি হওয়া ক্যান্সার রোগীদের বেশিরভাগই পরিপাকতন্ত্রের ক্যান্সারের রোগী। এরপরেই রয়েছে ইন্ট্রাথোরাসিক এবং শ্বাসযন্ত্রের ক্যান্সার। তবে এরপর সবচেয়ে বেশী ক্যান্সার রোগীর উৎস ও কারণ অজানা। 

সামগ্রিকভাবে (সকল ধরণের ক্যান্সার এবং সকল বয়সে) পুরুষ ক্যান্সার রোগী মহিলাদের তুলনায় বেশি ভর্তি হয়েছে। তবে হাড় এবং ত্বকের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে মহিলারা ১.৭১ গুণ বেশী ভর্তি হয়েছে।

বয়স্ক ক্যান্সার রোগীদের সরকারি হাসপাতাল গুলিতে ভর্তির হার বেশি এবং ৬০—৬৯ বছর বয়সী রোগীদের প্রতি ১০০,০০০ জনসংখ্যায় ভর্তির হার সবচেয়ে বেশি। এলাকা ভিত্তিক ক্যান্সার রোগী ভর্তির ক্ষেত্রে শীর্ষ ৩টি জেলা ছিল সিলেট, চট্টগ্রাম এবং ময়মনসিংহ, যেখানে প্রতি ১০০,০০০ জনসংখ্যায় যথাক্রমে ২৪৫.১, ১৭৯.২ এবং ১০৮.৩ জন ভর্তি হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ক্যান্সার রোগে ভর্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সময়ের সাথে সাথে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের উচিত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।


Fighting Cancer Desk
ফাইটিং ক্যান্সার ডেস্ক